দেখুন চোখ ধাঁধানো বর্ষসেরা ১০ গোল







গোল তো অনেকেই করে। সব গোল কি আর মনে সমানভাবে দাগ কেটে যায়! কিছু গোল দাগ কাটে সৌন্দর্যের জন্য, কিছু ম্যাচের পরিস্থিতির বিবেচনায়। তবে বর্ষসেরা গোলের প্রসঙ্গ যখন আসে, সেখানে ম্যাচের পরিস্থিতির গুরুত্বের চেয়েও সৌন্দর্যটাই হয়ে ওঠে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মেসি-নেইমারের মতো তারকাদের হারিয়ে দিয়ে বর্ষসেরা গোলের পুরস্কার জিততে পারেন ফাইজ!সুন্দর গোল বললেই হয়তো চোখে ভেসে উঠতে পারে মেসির কোনো ফ্রি কিক, বা কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে চিপ। অথবা রোনালদোর বক্সের বাইরে থেকে আগুনে গোলা শট। বা নেইমার-বেলদের বল পায়ে অবিশ্বাস্য দৌড়ের পর গোল। কিন্তু সুন্দর গোল তো আর তারকা চেনে না। মাঝে মাঝে অখ্যাত কোনো দেশের অখ্যাত খেলোয়াড়ের পা থেকেও আসতে পারে চোখে লেগে থাকার মতো কোনো গোল।
গত বছরের ওয়েন্ডেল লিরার কথাই ধরুন। ব্রাজিলের অখ্যাত এই স্ট্রাইকার (গত বছরই অবসর নিয়েছেন) লিওনেল মেসিকে হারিয়ে জিতেছিলেন ফিফার বর্ষসেরা গোলের পুরস্কার পুসকাস অ্যাওয়ার্ড। কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাসের নামে দেওয়া হয় এই পুরস্কার।
এই বছরেরও সবচেয়ে সুন্দর গোলগুলো খুঁজতে ফিফার কাছেই যাওয়া। এই মনোনয়ন তালিকায় গত বছরের শেষের দিকের কিছু গোলও বিবেচনায় ছিল। আগে তালিকা প্রকাশের জন্য এমনটা করা হয়। এ কারণে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এই তালিকা প্রকাশের পর যদি সুন্দর কোনো গোল হয়ে থাকে, সেটি জায়গা পাবে ২০১৭ সালের বর্ষসেরা গোলে। পাঠকেরা যেন বিভ্রান্ত না হন, সে জন্যই ব্যাখ্যা।
তবে এসব বাদ দিয়ে আপাতত উপভোগ করুন চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া সুন্দর ১০ গোল।

পুসকাস পুরস্কারের জন্য মনোনীত সেরা দশটি গোলই দেখে নিন:

মারিও গাসপার (স্পেন): ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ। ৭১ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য। শেষ পর্যন্ত সেটি ভাঙে মারিও গাসপারের দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে। ম্যাচটা স্পেন জেতে ২-০ গোলে।
ফাইজের সেই গোল, যা নিয়ে এখনো চলছে গবেষণা!হোলোম্ফো কেকানা (দক্ষিণ আফ্রিকা): ক্যামেরুনের বিপক্ষে আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ। নিজের অর্ধ থেকে শট করে গোল করেন হোলোম্ফো কেকানা।
মারলন (ব্রাজিল): করিন্থিয়ানসের হয়ে, কোবরেসালের বিপক্ষে। কোপা লিবার্তাদোরেসের ম্যাচে। দুর্দান্ত সিজর কিকে গোল করেন মারলন।
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, শতবার্ষিকী কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে। বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পেয়ে সেটিকে জালে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
নেইমার (ব্রাজিল): বার্সেলোনার হয়ে, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে। স্প্যানিশ লিগের ম্যাচে। বক্সে সুয়ারেজের ক্রসটিকে এক খেলোয়াড়ের মাথার ওপর দিয়ে উঠিয়ে নেন। এরপর ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে শট নেন।
সল নিগেজ (স্পেন): অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে, বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে। মাঝবৃত্তের একটু সামনে বল পেয়ে এক দৌড়ে চার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন অ্যাটলেটিকো মিডফিল্ডার।
হাল রবসন-কানু (ওয়েলস): বেলজিয়ামের বিপক্ষে, ইউরোতে। বলতে গেলে কানুকে নতুন ক্লাব এনে দিয়েছিল গোলটি। ইউরোতে যাওয়ার আগে ছিলেন ক্লাবহীন। কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত এই গোলটি করেই আসেন আলোচনায়। যা তাঁকে এনে দেয় প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট ব্রমে খেলার সুযোগ।
দানিউস্কা রদ্রিগেজ (ভেনেজুয়েলা): কলম্বিয়ার বিপক্ষে, দক্ষিণ আমেরিকান মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে। বক্সে ড্রিবলিংয়ের পর ড্রিবলিং করে দুই ডিফেন্ডারকে ঘোল খাইয়ে ছাড়েন দানিউস্কা। এরপর গোলার মতো শটে বল জালে।
সিমন স্ক্র্যাব (ফিনল্যান্ড): গেফলের হয়ে, আভিডাবার্গের বিপক্ষে। সুইডিশ লিগে। এটিও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে।
মোহাম্মদ ফাইজ সুব্রি (মালয়েশিয়া): পেনাংয়ের হয়ে, পাহাংয়ের বিপক্ষে। মালয়েশিয়ান সুপার লিগের এই গোলটিই বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ফ্রি কিক থেকে সুব্রির নেওয়া শট বাতাসে সাপের মতো এঁকেবেঁকে জড়িয়ে যায় জালে।


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment