মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া উচিত




‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও বাংলাদেশের করণীয়’ শিরোনামে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা। ছবি: গণসংহতি আন্দোলনের সৌজন্যেমিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা ঢুকছে। কিন্তু মানবতার কারণে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও বাংলাদেশের করণীয়’ শিরোনামে গোলটেবিল আলোচনায় এমন অভিমত দেন বক্তারা। গণসংহতি আন্দোলনের আয়োজনে আজ রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের খুন-নির্যাতনে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া সু চির কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। আগে তিনি কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গাদের বিরোধিতা করতেন, এখন সরাসরি বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় না দিলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। ফলে তাদেরকে শনাক্ত করা ও ফেরত পাঠানো আরও কঠিন হবে।

বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এ দেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যায় করণীয় ঠিক করতে পারছে না সরকার, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির মতো বড় দল। প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের মানবিক দায়িত্ব রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে চাপ প্রদান করা। বাংলাদেশ এই দায়িত্ব পালন না করলে একাত্তরের শরণার্থীদের প্রতি অবমাননা করা হবে।

অধ্যাপক প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, একাত্তরে উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশের মানুষও ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছিল—এ কথা ভুলে গেলে চলবে না। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নাগরিকত্বহীন রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিও একই রকম।

অধ্যাপক স্বপন আদনান বলেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে দেওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যুর হাতে দিয়ে দেওয়া। তারা একদিকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে হয়রানির শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে মাছ ব্যবসায়ী, কাঠ ব্যবসায়ী ও মাদক চোরাকারবারিরা তাদের সস্তায় শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করছে।

আলোচনা সভার সভাপতি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের দায়িত্ব। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো নিশ্চুপ থাকলে এই গণহত্যা বন্ধ হবে না, বরং মৌলবাদী শক্তিগুলো এই সুযোগ গ্রহণ করবে, দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা যেমন সৃষ্টি হবে, সীমান্তেও স্থায়ী নৈরাজ্য হিসেবে এটা থেকে যাবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হামিদুল হক, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment