বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার। কিন্তু স্বাধীনতার চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে এ নিয়ে খুব বেশি পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
বঙ্গোপসাগরের অধিকার নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে সীমানাবিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ নেয়। তারই ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার জলসীমায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার একচ্ছত্র অধিকার পায়। শুরু হয় নানা ধরনের অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম।
এ কথা জানা যে, স্থলভাগের মতোই জলভাগও যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক দেশেই সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশকেও বঙ্গোপসাগরের অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। এটা ঠিক, এ ক্ষেত্রে আমাদের দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবলের অভাব রয়েছে। সেই লোকবল আমাদের তৈরি করতে হবে এবং তা করতে হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। প্রযুক্তিগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। সমুদ্রসম্পদের সুরক্ষায় যত্নবান হতে হবে। আমাদের নৌবাহিনীকে সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। তা আরো জোরদার করতে হবে। সব কিছুই করতে হবে সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার সঠিকভাবেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।
সাগরে অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ার অল্প দিনেই পাওয়া যায় বিপুল সম্ভাবনার হাতছানি। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার বেশ কিছু স্থানে মূল্যবান ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম রয়েছে। এখন সেগুলোর বাণিজ্যিক আহরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জার্মানির যৌথ জরিপে অগভীর সমুদ্রের ১৩টি স্থানে সন্ধান মিলেছে ভারী খনিজ বালুর। এই বালু ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমানাইট, জিরকন, রুটাইল ও ম্যাগনেটাইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান খনিজসমৃদ্ধ। ৩০ থেকে ৮০ মিটার গভীরতায় বেশ কিছু স্থানে একধরনের ক্লের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সিমেন্টশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ক্লে আহরণ করা গেলে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পে বিপ্লব ঘটে যাবে।
ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের জলসীমায় গ্যাসেরও ব্যাপক মজুদ রয়েছে। কয়েকটি ব্লক বিদেশি বিভিন্ন কম্পানির কাছে ইজারাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে। ফলে এখনো সেগুলোতে বড় কোনো সাফল্য আসেনি। অথচ এরই মধ্যে মিয়ানমার বাংলাদেশের জলসীমার কাছেই বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গ্যাস অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রাণিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়ার লক্ষ্যেও বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ব্যাপক অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ ‘আরভি মীন সন্ধানী’। আশা করা হচ্ছে, এখানেও শিগগিরই বড় ধরনের সুখবর পাওয়া যাবে।
- Blogger Comment
- Facebook Comment
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
0 comments:
Post a Comment