জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট না দেয়ায় নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান সিহাবকে লাঞ্চিত করেছে ১৫নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত সদস্য প্রার্থী কিশোরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কমিটির নির্বাহী সদস্য মো. হোসেন শহীদ সোহারাওয়ার্দি ওরফে গ্রেনেড বাবুর ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে কিশোরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এই ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উক্ত বিএনপি নেতাকে আটক করে।
জানা যায় গত ২৮ ডিসেম্বর বুধবার /২০১৬ নীলফামারী জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে তালা প্রতীক নিয়ে প্রতীদ্বন্দ্বীতা করেন কিশোরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সদস্য মো. হোসেন সহীদ সোহারাওয়ার্দি ওরফে গ্রেনেড বাবু।
ঘটনার শিকার মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদর রহমান সিহাব অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি ভোটার হওয়ায় সদস্য প্রার্থী মো. হোসেন সহীদ সোহারাওয়ার্দি ওরফে গ্রেনেড বাবু আমার কাছ ভোট প্রার্থনা করে। আমি তাকে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। ওই ফলাফলে সে পরজিত হয়। ’
তিনি আরো জানান আজ‘বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) কিশোরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এলজিএসপি প্রকল্পের সভা হয়। সভা শেষে অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে তিনি উপজেলা মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় করে বের হতেই গ্রেনেড বাবু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। হামলায় কিলঘুষি ও লাথি মারা শুরু করে এবং পকেটে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে থাকা লোকজন এগিয়ে আসলে গ্রেনেড বাবু ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে কিশোরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ শেষে এবিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেই।’
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে হোসেন শহীদ সোহারাওয়ার্দি গ্রেনেড বাবু বলেন, ‘মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (৩,৪,৫ ওয়ার্ড সদস্য) সংরক্ষিত সদস্য শিল্পী আক্তার আমার ভাবী। তিনি যেন আমাকে ভোট না দেন এজন্য ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর হোসেন সিহাব আমার ভাবীকে না হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ভোটের দিন বুধবার আমার ভাবী আমাকে ভোট দিয়ে বাড়ী ফিরছিলেন। এমন সময় কিশোরীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডের সামনে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর হোসেন সিহাব আমার ভাবী শিল্পী আক্তার ও ভাই জুয়েলকে আটক করে লাঞ্চিত করে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ইউপি চেয়ারম্যানকে পেয়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি মাত্র।
কিশোরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রশীদ বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর হোসেন সিহাব বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে বিকাল পনে পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত হোসেন শহীদ সোহারাওয়ার্দি গ্রেনেড বাবুকে আটক করা হয়েছে।
0 comments:
Post a Comment