নীলসাগর ট্রেনে দ্বিতীয় বহর পাচ্ছে না রেলযাত্রীরা, ট্রেনে নতুন কোচ সংযোজন হচ্ছে

রেলমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে দ্বিতীয় র্যা ক (বহর) চালু করছে না কর্তৃপক্ষ। বরং নববর্ষের প্রথম সপ্তাহে ওই ট্রেনটির পুরোনো কোচগুলো পাল্টানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রেনটিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা নতুন কোচ যুক্ত হচ্ছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে সূত্র জানায়, নববর্ষের শুরুতে চিলাহাটি-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলপথে নীলসাগর আন্তনগর ট্রেনটিতে নতুন কোচ দেওয়া হচ্ছে। আজ শুক্রবার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় যাবতীয় পর্যবেক্ষণ শেষে ১৬টি কোচ রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে গত বিজয় দিবসে দিনাজপুর-ঢাকা রুটে একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিতে ব্রডগেজ লাইনের কোচ সংযোজন করা হয়। ফলে প্রতিদিন ওই ট্রেন দুটিতে রাজস্ব আয় বাড়ছে।
রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গত সেপ্টেম্বর মাসে সৈয়দপুর কারখানা পরিদর্শনে আসে। তখন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছিলেন, ‘নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টমুখী নীলসাগর ট্রেনটিতে দ্বিতীয় র্যা ক চালু করা হবে। এ ব্যাপারে পরে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে কারখানার শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করে বলেছে, মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত থাকছে। নীলসাগরে নতুন দ্বিতীয় র্যা ক চালু হচ্ছে না। বরং পুরোনো ট্রেনটির কোচ পাল্টে নতুন কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগ সৈয়দপুর কারখানা শাখার সম্পাদক মোখছেদুল মোমিন বলেন, নীলসাগরে দ্বিতীয় র্যা ক চালু না হওয়ায় রংপুর অঞ্চলের মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে। তিনি মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী চিলাহাটি-ঢাকা রুটে দিবাকালীন ট্রেন চালুর দাবি জানান।

নতুন রূপে চালু হতে যাওয়া নীলসাগর ট্রেনটিতে থাকবে ১২টি আধুনিক কোচ। এর মধ্যে রয়েছে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শয়নযান (স্লিপার), একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ, ছয়টি শোভন চেয়ার, একটি পাওয়ার কার, দুটি খাবার গাড়ি ও একটি শীতাতপবিহীন প্রথম শ্রেণির কোচ। নববর্ষের প্রথম সপ্তাহে নতুন রূপে ওই ট্রেন বহর চালু হচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) শওকত জামিল মহসী বলেন, নতুন বছরে নীলসাগর নতুন রূপে চলাচল করবে। নতুন আর একটি দিবাকালীন ট্রেন চালু করা হবে কি না, সে সম্পর্কে কিছুই বলেননি তিনি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাতেই নীলসাগর ট্রেনে নতুন কোচ চালু করা হচ্ছে। তবে নতুন আর একটি ট্রেন বহর চালু হবে কি না—এ ব্যাপারে কোনো কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।
Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment