বাঁচতে এসে মরছে পরিযায়ী পাখি, ভাসছে পদ্মায়




পদ্মা নদীতে ভেসে আছে মৃত পরিযায়ী পাখি। ছবিটি গতকাল বৃহস্পতিবারের। ছবি: প্রথম আলোরাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পরিযায়ী পাখি মরে ভেসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিন ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, শিকারিদের বিষটোপ খেয়ে পাখিগুলো মারা যাচ্ছে।

শীত মৌসুমে প্রচণ্ড শীতের দেশ থেকে এ দেশে ঝাঁকে ঝাঁকে আসে এসব পরিযায়ী পাখি। নদীনালা, খালবিল আর হাওর-বাঁওড়ে বিচরণ করে বেড়ায়। এ দেশের জলাশয় আর ডাঙা থেকে জোগাড় করা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। শীত মৌসুম ফুরালে আবার আগের ঠিকানায় ফিরে যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী নগরের চর খানপুর ও মাঝারদিয়াড়ের মাঝামাঝি এলাকায় পাঁচটি পাখি মরে ভেসে ছিল। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য হাসনাত রনি ছবি দেখে তিনটি পাখি শনাক্ত করেন। তিনটি পাখিই পাতি তিলি হাঁস। ইংরেজি নাম Common Teal। এরা পরিযায়ী পাখি। দুটি মেয়ে। আর রঙিন মাথার পাখিটি পুরুষ।

হাসনাত রনি বলেন, কয়েক দিন ধরে পরিযায়ী পাখিদের শিকারিরা বিষটোপ দিয়ে মেরে ফেলছে।

রাজশাহী নগরের কেশবপুর এলাকার শিক্ষার্থী অনিক পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করেন। তিনি নৌকাও চালান। তাঁর ছোট ভাই আরিফ গতকাল সকালে নৌকায় যাত্রী নিয়ে চরমাঝারদিয়াড় এলাকায় যাচ্ছিলেন। তিনিই মরা পাখিগুলো ভাসতে দেখেন। অনিককে ফোন করে বিষয়টি জানান। অনিক সেগুলো তুলে আনার ব্যবস্থা করেন।

মৃত পাখি তুলে রাখা হয়েছে। ছবি: প্রথম আলোখবর পেয়ে শ্রীরামপুর ঘাটে গিয়ে আরিফের সঙ্গে কথা হয়। আরিফ বলেন, সেখানে পাঁচটি পাখি মরে ছিল। একজন যাত্রী দুটি পাখি নিয়ে যান। ওই দুইটি ছিল চখাচখি। তিনি চেনেন।

অনিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আনিসুজ্জামান মো. সালেহ রেজা পাখি তিনটি নিয়ে যান। তিনি  বলেন, পাখিগুলোর দেহাবশেষ সংরক্ষণ করে বিভাগের জাদুঘরে রেখে দেবেন।

শিক্ষক আনিসুজ্জামান আরও বলেন, তাঁর ধারণা শিকারিরা বিষটোপ দিয়ে এভাবে পাখি মেরে ফেলছে। টোপ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে পাখিগুলো মারা যাচ্ছে, সেগুলো শিকারিরা নিয়ে যাচ্ছে। যেগুলো পরে মারা যাচ্ছে সেগুলো পানিতে ভাসছে। পাখিরা বীজতলার বীজ খেয়ে ফেলে। এ কারণে কৃষকেরা অনেক সময় বীজের সঙ্গে বিষ মাখিয়ে দেন। এগুলো খেয়েও পাখি মারা যেতে পারে।


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment