পাঁচ আসামিকে শনাক্ত করলেন বাড়িওয়ালা




পাঁচ আসামিকে শনাক্ত করলেন বাড়িওয়ালারংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় আজ বুধবার আরও পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো। ২৯, ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এবং ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ দিনে বাকি ৪০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক এ ব্যাপারে বলেন, আজ কুনিও হোশির সঙ্গে সখ্য থাকা ব্যক্তি কাজী ইবনে নূর অন্তু, যে বাড়ির সামনে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, ওই বাড়ির মালিক নূরজাহান বেগম, ঘটনাস্থলের বাসিন্দা নূরুল হক, রংপুর শহরের নূরপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ ও অটো ব্যবসায়ী জসিমউদ্দিনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

সাক্ষ্যে রংপুর শহরের নূরপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ কাঠগড়ায় থাকা পাঁচ আসামিকে শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, তাঁর নূরপুরের বাড়িতে এই পাঁচজন ভাড়া থাকতেন। প্রায়ই আরও অনেকে আসতেন। তাঁরা একেক দিন একেকটি অটোরিকশায় করে ঘুরে বেড়াতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্র জানায়, আজ সকালে পুলিশি নিরাপত্তায় আট আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (২১), একই এলাকার জেএমবির সদস্য ইছাহাক আলী (২৫), বগুড়ার গাবতলী এলাকার জেএমবির সদস্য লিটন মিয়া ওরফে রফিক (২৩), পীরগাছার কালীগঞ্জ বাজারের জেএমবির সদস্য আবু সাঈদ (২৮) ও গাইবান্ধার সাঘাটার হলদিয়ার চর এলাকার সাখাওয়াত হোসেন (৩২)। পলাতক এক আসামি হলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাটের মকর রাজমাল্লী এলাকার আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪)।

এই মামলার আসামি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গজপুরি এলাকার নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান (২৮) ইতিপূর্বে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটের চর বিদ্যানন্দ এলাকার সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ওরফে চঞ্চল ওরফে সবুজ ওরফে রবি (২১) ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারি গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার বর্তমান ওসি আবদুল কাদের জিলানী গত বছরের ৩ জুলাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আট সদস্যের বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment