রংপুরের বিভিন্ন এলাকার আলুখেত লেট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাঠেও নেমে পড়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর হালকা বৃষ্টিতে আলুখেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মাঠপর্যায় ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আলুখেতে এ রোগ আক্রমণের শুরুতে প্রথমে আলুগাছের পাতায় ছোট দাগ পড়ে। এরপর তা কাণ্ডে চলে যায়। এরপর ধীরে ধীরে আলুগাছ কুঁকড়ে গিয়ে অনেকটা ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এ রোগ থেকে রেহাই পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকেরা খেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করতে ১০ দিন থেকে পুরো জেলায় প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুরে ৫৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে রংপুরে প্রতিবছর আলু আবাদের চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে গত বছরের চেয়ে এ বছর চার হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ বেশি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ খেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে এর সঠিক তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ দিতে পারেনি।
চাষিদের অভিযোগ, ওষুধ ছিটিয়েও আলুর পচন ঠেকানো যাচ্ছে না। আলুর পচন রোগ থেকে রক্ষা পেতে কেউ কেউ চার থেকে পাঁচবারও ওষুধ স্প্রে করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে জানা যায়, নগরের মাহীগঞ্জ আমতলা এলাকার কৃষক শামসুল আলম এ বছর সাত বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। তাঁর আলুগাছের বয়স এক মাস পার হয়েছে। তিনি বলেন, খেতের পাতা পচন ধরে গাছ নেতিয়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে চারবার ওষুধ ছিটিয়েছেন। এতে কিছুটা রক্ষা হলেও আলুর উৎপাদন কমে যাবে বলে তাঁর আশঙ্কা।
নগরের দেওয়ানটুলি এলাকার কৃষক তিন বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। হঠাৎ তিন দিন আগে খেত হলুদ বর্ণ হতে থাকে। উপায় না পেয়ে বাজার থেকে কীটনাশক কিনে ছিটিয়েছেন। কিন্তু খেতের যে কী হবে তা বুঝতে পারছেন না। এভাবে আরও বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষক তাঁদের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক স ম আশরাফ আলী বলেন, ‘এই রোগ থেকে কৃষকদের পরিত্রাণ পেতে আমরা অনেকেই এখন মাঠে রয়েছি। আজও (মঙ্গলবার) আমি নগরের মহব্বত খা এলাকায় কৃষকদের নিয়ে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ সময়টা খেতের প্রতি নজর রাখতে হবে। গাছের পাতার রং পরিবর্তন হতে দেখলেই মানসম্পন্ন কীটনাশক ছিটাতে হবে। আশা করি এ রোগ দূর হয়ে যাবে।’
0 comments:
Post a Comment