রংপুরের কারমাইকেল কলেজের ছেলেদের তিনটি ছাত্রাবাস প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর ঐতিহ্যবাহী গোপাল লাল রায় (জিএল) ছাত্রাবাসটি আবার চালু হতে যাচ্ছে। অন্য দুটিও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।২০১১ সালে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রাবাস তিনটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রাজা গোপাল লাল রায় (জিএল) নামের ছাত্রাবাসটি চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য এটি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে আসনসংখ্যা প্রায় ২০০। ইতিমধ্যে আবেদনের জন্য ফরমও ছাড়া হয়েছে। আর কাশিম বাজার (কেবি) ছাত্রাবাস ও ওসমানী ছাত্রাবাস দুটিও পর্যায়ক্রমে সংস্কার করে চালু করা হবে।
কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, জিএল ছাত্রাবাসটির কক্ষগুলো সংস্কার করা হয়েছে। ভবনে রং করায় নতুন রূপ ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসটি। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘শুধু একটি নয়, সব হলই (ছাত্রাবাস) বসবাসের উপযোগী করে চালু করা দরকার। এতে কলেজের প্রাণ ফিরে আসবে।’
বর্তমানে কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রিসহ ২১টি বিষয়ে সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁদের আবাসিক সুবিধার জন্য ছয়টি ছাত্রাবাস থাকলেও তিনটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এই বন্ধ তিনটিতে আবাসন সুবিধা রয়েছে প্রায় এক হাজার। আর ছাত্রীদের জন্য তিনটি ছাত্রীনিবাসে আসনসংখ্যাও সমান সংখ্যক। এ ছাড়া বর্তমানে ছেলেদের জন্য চারতলাবিশিষ্ট একটি নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণাধীন রয়েছে। এখানে ২০০ আসন রয়েছে।
২০১১ সালের ১৫ মার্চ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের ব্যাপক সংঘর্ষের পর ছেলেদের তিনটি আবাসিক ছাত্রাবাস এক মাসের জন্য বন্ধ করে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরে আর সেগুলো খুলে দেওয়া হয়নি।
0 comments:
Post a Comment