
বন্ধ হয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আগামী সপ্তাহেই পুনরায় খুলছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মালয়েশিয়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নেয়া শুরু করবে। এর মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
রোববার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম শাখার কাউন্সেলর মো. সাইয়েদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন যে মেশিনে কর্মী নিয়োগ করা হয় সেই মেশিনটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর তা সঠিকভাবে কাজ করলে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ শ্রমবাজার চালু করবে।
২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ থেকে বেশি সংখ্যায় কর্মী নেয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। তারপর ২০১২ সালে দু'দেশের সরকার জিটুজি চুক্তি করে সরকারি পর্যায়ে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। ওই সময়ে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমলেও কর্মী পাঠানোর সংখ্যা খুবই কম হয়। জিটুজি পদ্ধতিতে সবমিলিয়ে ১০ হাজারের কম কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব হয়। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির আন্তরিক প্রচেষ্টায় নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্যে ব্যাপক হারে চালু হতে যাচ্ছে।
২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া জিটুজি প্লাস চুক্তি সই করে। এ চুক্তির আওতায় বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উভয় দেশের সরকারের কড়া নজরদারি থাকবে।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর আরও জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। নিয়োগকারীরা চাহিদা দেবে আর তার ভিত্তিতে অনলাইনে নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। এখানে কারও তদবিরের কিছু থাকবে না। যে মেশিনে এ রিক্রুটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে এখন সেটা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, 'মালয়েশিয়া ১৯৮৬ সাল থেকেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়ে থাকে। কিন্তু তখন বাংলাদেশকে তার কর্মী নিয়োগের সোর্স কান্ট্রি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তখন মালয়েশিয়ার কর্মীর জন্য ১৪টি সোর্স কান্ট্রি ছিল। এখন বাংলাদেশ ১৫তম সোর্স কান্ট্রি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সব খাতেই কর্মী পাঠাতে পারবে। তবে এ মুহূর্তে ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ প্লান্টেশন খাতে কর্মীর চাহিদা বেশি।'
0 comments:
Post a Comment