লালমনিরহাটে পরকীয়ার অপরাধে গৃহবধূকে গ্রাম ছাড়া করল মাতব্বররা



পরকীয়ার অপরাধে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে গ্রাম ছাড়া করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে কতিপয় গ্রাম্য মাতব্বর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা লতাবর গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, লতাবর গ্রামের দিনমজুর ফজলার রহমান দুই সন্তান ও স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে কাজের সন্ধানে মাঝে মধ্যে ঢাকায় যান। স্বামী ঢাকায় যাওয়ার সুবাদে তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন চন্দ্রপুর এলাকার পল্লী চিকিৎসক দুই সন্তানের জনক মুকুল মিয়া। বিয়ের প্রলোভনে মুকুল মিয়া ওই গৃহবধুর সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।

গত মঙ্গলবার(৩জানুয়ারি) দিনগত গভির রাতে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে ওই গৃহবধুর বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলেই ধর্ষক মুকুলকে আটক করে। শুরু হয় শালিস বৈঠক।

স্থানীয় মাতব্বর আব্দুল জলিল মৈশালের নেতৃত্বে ওই বাড়িতে রাতে শালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন চন্দ্রপুর ইউপি সদস্য ফজলুল হক, দেলোয়ার হোসেন,সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী, পল্লী চিকিৎসক মনি, লুৎফর রহমান ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী শরিফুল ইসলাম। সেখানে ওই গৃহবধুকে দোষি সাব্যস্থ করেন মাতব্বররা। পূর্বের স্বামীকে তালাক না দিয়ে নতুন বিয়ে করা যাবে না এমন অযুহাতে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে করা হয়। এক পর্যায়ে মাতব্বরের চাপে গৃহবধূ ঢাকায় অবস্থানরত স্বামীকে তালাক প্রদান করেন বলে গৃহবধু অভিযোগ।

স্বামীকে তালাক দেয়ার পর মাতব্বররা মোটা অংকে টাকার বিনিময়ে ধর্ষক মুকুলকে পালিয়ে দেন এবং ওই এলাকার খামারভাতি গ্রামে গৃহবধুর বাবার বাড়ির পাশ্বের জনৈক জয়নালের বাড়িতে ধর্ষিতা গৃহবধুকে রেখে ছটকে পড়েন মাতব্বররা।

গৃহবধু জানান, তাকে বিয়ের প্রলোভনে এক বছর ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ায় পল্লী চিকিৎসক মুকুল মিয়া। পরকীয়া প্রেমিকের সাথে বিয়ে দেয়ার লোভ দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে আব্দুল জলিল মৈশালসহ কয়েকজন মাতব্বর। তালাক হওয়ার পর তাকে তার বাবার বাড়ির পাশ্বে রেখে ছটকে পড়ে মাতব্বররা।

আইনের আশ্রয় না নিতেও হুমকী দিচ্ছে মাতব্বররা। প্রয়োজন হলে এক লাখ টাকা নিয়ে চুপ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন মাতব্বররা, যোগ করেন ওই গৃহবধু।
গৃহবধুর বাবা জানান, তার মেয়ে যদি অন্যায় করে তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। সেখানে মেয়ের বিচার হবে। ওরা কারা(মাতব্বররা) আমার মেয়েকে তালাক দেওয়ায়। তিনি মাতব্বরদের বিচার দাবি করেন।

মাতব্বর আব্দুল জলিল মৈশাল বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার জানান, মেয়ের(ধর্ষিতা) বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ । স্বামী তাকে রাখতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটি নিজেই তালাক দিয়েছেন। তাকে জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয় নি বলেও দাবি তার। তবে ধর্ষনের ঘটনার বিচার করার আইগত অধিকার তার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।

চন্দ্রপুর ইউপি সদস্য দেলোয়ার রহমান ফোনে জানান, জোরপূর্বক নয় মেয়ে নিজেই তালাকনামায় স্বাক্ষর করেছেন। এর বাহিরে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।

চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার শরিফুল ইসলাম তালাকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেয়ে স্বেচ্ছায় তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। নতুন করে বিয়ে করতে হলে নুন্যতম একশত দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ তালাকের ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও ঝামেলা হতে পারে সন্দেহে ভলিয়ম বহিতে তালাকের তথ্য উঠানো হয় নি বলেও জানান তিনি।

কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মকবুল হোসাইন জানান, অভিযোগ যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, বিষয়টি দ্রুত খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment